যারা ফেসবুকে স্ত্রী,মেয়ে, বোন বা অন্য কারো ছবি দেন তাদের জন্য

যে সমস্ত মুসলিম ভায়েরা স্ত্রীর পিক বা প্রাপ্তবয়স্ক মেয়ের পিক Facebook সহ যেকোন গনমাধ্যমে দিয়ে থাকেন তাদের জন্য কিছু কথা।
-- না ভাই ঠিক আছে, আপনি আপনার স্ত্রী বা প্রাপ্তবয়স্ক মেয়ের ছবি বা বোনের ছবি জনগনকে দেখাতেই পারেন, এটা আপনার ব্যক্তিগত স্বাধীনতা,,!! যা খুশি তাই করেন,,!!!!

-- তবে মুসলিম ভাই আমার, একবারের জন্যও কি চিন্তা করে দেখেছেন,!? এটা কতটুকু সঠিক বা কমনসেন্সের কাজ করছেন,,!? আপনি মুসলিম, সুতরাং এটা কি আপনার জন্য বৈধ,,?? আফসোস,!! আজ আমাদের জীবন ব্যবস্থা, সামাজিক ব্যবস্থা দেখে ইহুদী, খ্রিষ্টান ও মুশরিকদেরও লজ্জা পাওয়ার কথা,,!!!
আজ আমরা নিজেরাই ঠিক নাই, অন্য ধর্মের মানুষ কি শিখবে আমাদের থেকে,,!?
-- অনেকে হয়তো আমার উপর রেগে যেতে পারেন,কেউ হয়তো বলতেই পারেন,,আরে মিঞা আমরা স্ত্রী, মেয়ে যার খুশি ছবি আপলোড করবো তাতে আপনার কি সমস্যা হুম,,!? কেউ কিছু বলেনা বরং এইরকম পিক দিলে সবাই কত লাইক দেয়, কেউ বলে মাশা আল্লহ, কিউট, সো সুইট, হট, ভাবিকে হেব্বি লাগছে, কেউ বলে ভাই ভাবিকে অসাধারণ লাগছে,,!আর আপনি মোল্লা এখানে খামাখা ভেজাল করছেন, এই যত সমস্যা মিঞা আপনাদের, আসোলে এই হুজুররাই খারাপ,,,!!!! যতসব,,!! যান যান, ওগুলো ফতওয়া অন্য জায়গাতে দেন,,!!!
-- হ্যা ভাই আমি বা আমরা নিজেকে ধোয়া তুলশি পাতা বলছিনা,,!! তবে আজকের এই পোষ্ট শুধুমাত্র আমার জাতী ভাই মুসলিমদের উদ্দেশ্য লিখলাম,,,একজন সাধারন মুসলিম হিসাবে আপনাকে সতর্ক করা আমার দায়িত্ব ছিল, এখন সেটা মানবেন কিনা তা আপনার বিষয়,!!!
হে মুসলিম উম্মাহ,,! মুসলিমদের উদ্দেশ্য আল্লহর সেই মেসেজটি আজ তুলে ধরলাম,,আমি Md. Shahed khandokar, যদি কিছু বলার থাকে আল্লহকে বলেন,,!!!
সুরা আহযাব: আল্লহ বলছেন,,
32] يٰنِساءَ النَّبِىِّ لَستُنَّ كَأَحَدٍ مِنَ النِّساءِ ۚ إِنِ اتَّقَيتُنَّ فَلا تَخضَعنَ بِالقَولِ فَيَطمَعَ الَّذى فى قَلبِهِ مَرَضٌ وَقُلنَ قَولًا مَعروفًا
[32] হে নবী পত্নীগণ! তোমরা অন্য নারীদের মত নও; যদি তোমরা আল্লাহকে ভয় কর, তবে পরপুরুষের সাথে কোমল ও আকর্ষনীয় ভঙ্গিতে কথা বলো না, ফলে সেই ব্যক্তি কুবাসনা করে, যার অন্তরে ব্যাধি রয়েছে তোমরা সঙ্গত কথাবার্তা বলবে।
[33] وَقَرنَ فى بُيوتِكُنَّ وَلا تَبَرَّجنَ تَبَرُّجَ الجٰهِلِيَّةِ الأولىٰ ۖ وَأَقِمنَ الصَّلوٰةَ وَءاتينَ الزَّكوٰةَ وَأَطِعنَ اللَّهَ وَرَسولَهُ ۚ إِنَّما يُريدُ اللَّهُ لِيُذهِبَ عَنكُمُ الرِّجسَ أَهلَ البَيتِ وَيُطَهِّرَكُم تَطهيرًا
[33] তোমরা গৃহাভ্যন্তরে অবস্থান করবে-মূর্খতা যুগের অনুরূপ নিজেদেরকে প্রদর্শন করবে না। নামায কায়েম করবে, যাকাত প্রদান করবে এবং আল্লাহ ও তাঁর রসূলের আনুগত্য করবে। হে নবী পরিবারের সদস্যবর্গ। আল্লাহ কেবল চান তোমাদের থেকে অপবিত্রতা দূর করতে এবং তোমাদেরকে পূর্ণরূপে পূত-পবিত্র রাখতে।
[34] وَاذكُرنَ ما يُتلىٰ فى بُيوتِكُنَّ مِن ءايٰتِ اللَّهِ وَالحِكمَةِ ۚ إِنَّ اللَّهَ كانَ لَطيفًا خَبيرًا
[34] আল্লাহর আয়াত ও জ্ঞানগর্ভ কথা, যা তোমাদের গৃহে পঠিত হয় তোমরা সেগুলো স্মরণ করবে। নিশ্চয় আল্লাহ সূক্ষ্নদর্শী, সর্ববিষয়ে খবর রাখেন।
--*---****----*----*----**------
হে মুসলিম উম্মাহ যদি তোমার বিবেক থাকে তবে উক্ত আয়াতগুলো একটু চিন্তা করুন,,আজ নবী পরিবারকে দিয়ে, কিয়ামত পর্যন্ত যত মানুষ দুনিয়াতে আসবে, আল্লহ তাদের এই শিক্ষা দিলেন,,!!!
এখন চিন্তা করুন, যেখানে নবী পরিবারের নারীদের পর্যন্ত আস্তে কথা বলা ও আকর্ষণীয় ভঙ্গীতে কথা বলা নিষেধ করা হচ্ছে, তাদেরকে ঘরের ভিতর অবস্থানের কথা বলা হচ্ছে(অর্থাৎ বিনা প্রয়োজনে বাহিরে না যাওয়া আর গেলেও সহিহ ভাবে পরদা করা) ,,,আর তুমি মুসলিম তোমার মেয়েকে বানাচ্ছ নাইকা, গাইকা, মিস ওয়ার্ল্ড, নাচনীওয়ালী, etc এবং তোমার স্ত্রী ও প্রাপ্তবয়স্ক মেয়ের পিক ডাউনলোড দিয়ে গোটা বিশ্বকে দেখাচ্ছ ও খুব গর্ববোধ অনুভব করছ ,!!!?? তাহলে তোমাদের জন্য এগুলো জায়েজ আছে,,?? ছিঃ ছিঃ কি দুর্ভাগা জাতীতে পরিণত হচ্ছি,,!! ৩২ নং আয়াতটি ভাল করে পড়ো মুসলিম ,,আল্লহ বলছেন যাদের অন্তরে রোগ আছে, এই রোগ মানে অশ্লীলতা, পরশ্রীকাতরতা, কামনাবাসনা etc আছে তার কুচিন্তা করবে,,,, এখন আমার প্রশ্ন: এইটি ছিল সাড়ে ১৪০০শ বছর আগের ঘোষনা আর এখন ২০১৭ সাল,,বর্তমান সব মানুষের চরিত্র ফুলের মত পবিত্র হয়ে গেছে,,!? বর্তমান সবচেয়ে বেশি ইভটিজিং, ধর্ষণ, পরকিয়া,,ইত্যাদি,,,!! এগুলো এতো বেশি কেন হচ্ছে,,? এর কারন ইসলাম ধর্মের বিধি নিষেধ না মানা, তাহলে আপনি কি হিসাবে আপনার স্ত্রীকে, মেয়েকে উন্মুক্ত করে বিশ্ববাসীর কাছে প্রদর্শন করছেন,,!!? এটা কি ঠিক করছেন,,!? ঠিক আছে দুনিয়ার বিনিময়ে আখিরাত বিক্র করবেন, সেটা আপনার ব্যাপার,,!! বুদ্ধিমানের জন্য ইশারাই যথেষ্ট, যা বুঝাতে চাচ্ছি আশা করি তা বুঝেছেন।
৩৩ নং আয়াত পড়েন,, আল্লহ তাদেরকে পবিত্র রাখতে চাচ্ছে, কেন আপনারা তাদের অপবিত্র করছেন,,!?
আল্লহ বলছেন,,সুরা আত তাহরিম:
[6] يٰأَيُّهَا الَّذينَ ءامَنوا قوا أَنفُسَكُم وَأَهليكُم نارًا وَقودُهَا النّاسُ وَالحِجارَةُ عَلَيها مَلٰئِكَةٌ غِلاظٌ شِدادٌ لا يَعصونَ اللَّهَ ما أَمَرَهُم وَيَفعَلونَ ما يُؤمَرونَ
[6] মুমিনগণ, তোমরা নিজেদেরকে এবং তোমাদের পরিবার-পরিজনকে সেই অগ্নি থেকে রক্ষা কর, যার ইন্ধন হবে মানুষ ও প্রস্তর, যাতে নিয়োজিত আছে পাষাণ হৃদয়, কঠোরস্বভাব ফেরেশতাগণ। তারা আল্লাহ তা’আলা যা আদেশ করেন, তা অমান্য করে না এবং যা করতে আদেশ করা হয়, তাই করে।
আল্লহ আমাদের সহিহ বুঝ দান করুন,,আমিন
Powered by Blogger.