শাকিব- অপু সম্পর্কে

শাক দিয়ে কি মাছ ডাকা যায়??
‘‘মা হিসেবে অপু বিগ জিরো। অপু নাকি নিয়মিত জিমে যায়, ব্যায়াম
করে। তখন শরীরের কোনো সমস্যা হলো না, আর বাথরুমে পড়েই
পুরোনো সেলাইয়ের জায়গা ছিঁড়ে গেল! এটা কি বিশ্বাসযোগ্য”?
সুত্র:ভোরের কাগজ
আচ্ছা মা হিসেবে যদি অপু বিগ জিরো হয়, তাহলে কি আপনি কি বিগ হিরো, তাইকি বলতে চাচ্ছেন! “লোকে যাকে বড় বলে বড় সে হয়,নিজে যাকে বড় বলে বড় সে নয়,” এখন কি আপনি বলতে চাচ্ছেন, “নিজেকে যাকে বড় বলে বড় সে হয়, লোকে যাকে বড় বলে বড় সে নয়”। অর্থাৎ যুগ যুগ ধরে প্রচলিত এই প্রবাদটা আপনার কাছে ভূল আর কি! অবশ্য আমরা সবাই এক বাক্যে বলতে পারি যে, অভিনেতা হিসেবে আপনি যে বিগ হিরো তাতে কোন সন্দেহ নেই, কিন্তু আপনি বাবা হিসেবে “বিগ হিরো” কিনা সেটা তো দেশবাসী লক্ষ্য করেছেন, এবং সোসাল মিডিয়া সহ সব ধরনের মিডিয়াতে চোখ বুলালে সেটা ভাল ভাবে বুঝা যায়। অবশ্য আপনি নিজের সাফাই নিজে গাইতে বেশ পটু। যেটা আগে কখনো আমাদের চলচিত্রে দেখা যায়নি। আপনার কাছ থেকে সুপার স্টারের এই সাফাই শুনতে শুনতে দেশবাসীতো বেশ বিরক্ত (মুষ্টিমেয় কিছু লোক ব্যাতীত)।
ছবি/ ফেসবুক থেকে নেওয়া
কিংবদন্তি অভিনেতা সোহলে রানা বলছিলেন, “চল্লিশ বৎসরের উপর অভিনয় করে এখনো নিজেকে সুপার স্টার ভাবতে পারি না”। সেখানে আমাদের কিং খান তো নিজেকে সুপার স্টার বলার জন্য সবসময় এক কদম এগিয়ে থাকে। সোহেল রানা দেশের প্রথম মুক্তিযোদ্ধার ভিত্তিক সিনেমর নির্মাতা, প্রাচ্যের অক্সফোর্ড ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সর্বোচ্চ ডিগ্রী ধারী, সাবেক সংগ্রামী ছাত্রনেতা ইকবালের হলের ভিপি এবং সর্বোপরি একজন বীর মুক্তিযোদ্ধা, এত কিছুর পরও নিজেকে সুপারস্টার বলতে লজ্জাবোধ করেন। উনি যখন সুপারস্টার ছিলেন তখন আমাদের কিং খানেরতো জন্মও হয়নি। সিনিয়র অভিনেতা ওমর সানি বলছিলেন, এখনো আমি অভিনেতা হতে পারিনি, অথচ উনি একসময় দেশের ১নং অভিনেতা ছিলেন। জনপ্রিয় প্রতিষ্ঠিত অভিনেতা জাহিদ হোসেনও একবার বলছিলেন, নিজেকে এখনো অভিনেতা ভাবতে পারি না। অর্থাৎ এই সব অগ্রজরা যে কত বিনয়ী ছিলেন, তা থেকে এখনকার নায়কদের অনেক কিছু শিখার আছে। তবে সম্প্রতি এখনকার এক নায়কের বিনয়ী ভাব দেখে খু্বই মুগ্ধ হয়েছি। আরফিন শুভ, যিনি বলছিলেন, আমি স্টার হতে চলচিত্রে আসি নাই, আমি এসেছি, অভিনয় শিখতে ।
কিংবদন্তি অভিনেতা সোহেল রানা, উনারা তো বাংলা চলচিত্রকে জন্ম দিয়েছেন, বিধায় আপনারা আজ নিজেকে সুপার স্টার বলে গর্ববোধ করতে পারছেন, যেমন বঙ্গবন্ধু এদেশ স্বাধীন না করে দিলে আমরা জাতীয়তা বাংলাদেশী লিখতে পারতাম না। অথচ অত্যন্ত পরিতাপের বিষয় হল যে, আজ সেই কিংবদন্তি অভিনেতাদের কে অপমান করতেও কেউ কেই কুন্ঠবোধ করে না। যা মোটেও কাম্য না। যে জাতী অগ্রজদের সম্মান করে না সে জাতীর খুব বেশী উন্নতি হয় না।
যাক, আপনি নিজেকে যদি সুপারস্টার বলতে গর্ববোধ করেন এবং উচ্ছ্বসিত হন, তাহলে আমরাও অখুশি না। কিন্তু কথা হচ্ছে, নিজের স্ত্রী বাথরুমে পড়ে আহত হওয়াকে যিনি খোঁজ নেওয়া তো দূরের কথা, বিশ্বাসযোগ্য মনে করেন না, তাতে দেশবাসী হতবাক না হয়ে পারেনি। অবশ্য দেশবাসী ইতিমধ্যে দেখেছে, আপনার সন্তানের ডেলিভারী থেকে শুরু করে ডেলিভারীর পরেও আপনার কি চমৎকার সহযোগিত ছিল, তা ভালভাবে দেখতে পেরেছেন।
মানুষ তো একজন আরেক জনের সাথে যতই শত্রুতা-বিবাদ থাকুক না কেন, ঈদের দিন তো অন্তত সব ভূলে সৌজন্যতা বশতঃ দেখা-সাক্ষাত করে, সেই ঈদের দিনও স্ত্রী-সন্তানের সাথে দেখা করতে যাবে দূরের কথা, বরঞ্চ স্ত্রী স্বামীর বাসায় যাওয়ার পরও স্বামী স্ত্রীর সাথে দেখা না করার পরও নিশ্চয় আপনি নিজেকে বিগ স্বামী বা বিগ বাবা বলবেন?
সন্তানের প্রতি যদি এতই দরদ থাকে তাহলে কোলকাতায় অবস্থান করার পরও নিজ সন্তানকে দেখতে যাওয়ার সময় হয় না যে পিতার, এবং দেশে আসার পরও স্ত্রী-সন্তানকে যিনি দুই মাস পর দেখতে যান! অথচ আজ বিদেশ থেকে এসেই হঠাৎ সন্তানের জন্য দরদী হয়ে ছুটে গেলেন স্ত্রীর বাসায়, তাও আবার দলবল নিয়ে! তাই বাস্তবেও সিনেমার মত অভিনয় করে “শাক দিয়ে মাছ ডাকার চেষ্টা” করলে একটা ছোট্ট শিশুর তা বুঝতে বাকী থাকেনা।
ন্যুনতম মানবিকতা থাকলেতো স্ত্রীর অসুস্থতার খবর শুনে প্রথমেই আপনার উচিত ছিল স্ত্রীর সাথে একটু যোগাযোগ করা, যেভাবে আপনি যখন হাসপাতালে অসুস্থ ছিলেন, তখন তো স্ত্রী আপনার কাছে ছুটে গিয়েছিলেন। অথচ নিজের স্ত্রী বাথরুমে পড়ে আহত হওয়াকে যখন স্বামী তুচ্ছ তাচ্ছিল্য করে, তখন মানুষের কাছে সেই স্বামীর মানবিক মূল্যবোধ কোথায় গিয়ে পৌছেছে, তা বুঝতে আর বাকী থাকে না। হয়ত মনে করেছিলেন, থানাকে ম্যানেজ করে বাচ্চকে নিজের আয়ত্বে নিয়ে যাবেন, কিন্তু থানা অত্যন্ত দৃঢতার পরিচয় দিয়ে আপনার পরিকল্পনা সম্পূর্ন বানচাল করে দিয়েছে। এখানে একটা জিনিস বলতে চাই, আসলে থানা বানচাল করেনি, আল্লাহই বানচাল করে দিয়েছেন, কারন এই সন্তানটাও যদি মায়ের হাত ছাড়া হয়ে যেত, তাহলে তো তার বেচে থাকাটাই বৃথা হয়ে যাবে। তাই আল্লাহ পাক একজন অসহায় মায়ের পক্ষে অবস্থান নিয়েছেন।
আপনার সেই উচ্চ শিক্ষিত প্রেস্টিজিয়াস জব থেকে আসা ফ্লপ সহ শিল্পীর বাসায় গিয়ে ফ্যামিলি টাইম কাটাতে সময়ের অভাব হয় না! আপনার স্ত্রীকে আপনার সেই উচ্চ শিক্ষিত নায়িকা যেভাবে অতি চমৎকার ভাষায় আক্রমন করেছে, তাতে নিশ্চয় আপনি পুলকিত হয়েছেন! এবং তাতে হয়ত আপনি আরো অনুপ্রানিত হয়ে সেই উচ্চ শিক্ষিত নায়িকাকে আপনার একের পর এক নতুন ছবিতে তাকে কাস্ট করছেন। এবং তাতে আপনার সেই উচ্চ শিক্ষিত নায়িকাও খুশীর আতিশায্যে বলেই ফেললেন, উনিই আপনার সেই কাংখিত “প্রিয়তমা”, এবং খুবই উচ্ছ্বাস প্রকাশ করে বলেই ফেললেন, জন্মদিনে তার
সেই প্রিয় মানুষটির ‍উইশ ও গিফটের কথা। তাই পাবলিকেও তো এখন বলাবলি শুরু করেছে, এই বুঝি থলের বিডাল কিছুটা বেরিয়ে এসেছে। যাক, দেশবাসীও খুবই অবাক দৃষ্টিতে বাস্তব জীবনের আপনার এই সব রোমান্টিক অভিনয় অপলক দৃষ্টিতে চেয়ে চেয়ে দেখছে। এবং তাতে আপনিও যে বেশ রোমাঞ্চিত তাও তারা দেখতে পাচ্ছে। যাক, এইবারও আপনি ধীর গতিতে আপনার সেকেন্ড ইনিংস চালিয়ে যান, আমাদেরতো ১ম ইনিংসের রেজাল্টের জন্য নয় বৎসর অপেক্ষা করতে হয়েছে। এইবারের ইনিংস কত লম্বা হবে, বা আপনি কত লম্বা করতে চান, তা একমাত্র আপনি বা আল্লাহ পাকই ভালই জান
লেখক: Rumman Chowdhury

মতামতের জন্য রসপুরী দায়ী নয়

Powered by Blogger.